
‘সর্বাধিপতি আংটি’ সঙ্কলনের চারটি সচিত্র বাংলা বই
১৯৩৭ সালে ‘দ্য হবিট’ বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর, টলকেইন গল্পটির পরবর্তী কাহিনী (sequel) হিসেবে ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’ লিখতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু বহু বছর ধরে লেখা এই সিকুয়েলটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছিল তাঁর প্রধান উপাখ্যান। গল্পটি একটিমাত্র খন্ডেই প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে প্রকাশকরা তিনটি খন্ডে বিভক্ত করেছিলেন কাহিনীটিকে, যদিও গল্প একটাই : ‘ট্রিলজি’ নয়, যার শিকড় রয়েছে ‘দ্য হবিট’ বইটিতে। ১৯৫৪ সনে প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় ইংল্যান্ডে ‘দ্য ফেলোশিপ অব দ্য রিং’ নামে; ঐ বছরেরই শেষের দিকে বেরোয় দ্বিতীয় খন্ড ‘দ্য টু টাওয়ার্স’, এবং ১৯৫৫ সনে প্রকাশিত হয় তৃতীয় খন্ড, ‘দ্য রিটার্ন অব দ্য কিং’ নামে।
‘সর্বাধিপতি আংটি’ নামে এই সচিত্র বঙ্গানুবাদে ঐ তিন-খন্ডের পদ্ধতিই নেওয়া হয়েছে : ২০১১ সনে বাংলায় ‘হবিট’ প্রকাশনার পর, ২০১২ তে প্রকাশিত হল বাংলায় ‘আংটির মৈত্রীসংঘ’; এবং এর পরে আসবে ‘দুই মিনার’ এবং সব শেষে ‘মহারাজের প্রত্যাবর্তন’।‘মৈত্রীসংঘে’র ভূমিকায় ‘হবিট’ কাহিনীটিকে সংক্ষেপে ঝালিয়ে নেওয়া হয়েছে, এবং ‘দুই মিনার’ ও ‘মহারাজের প্রত্যাবর্তন’ উভয় খন্ডের প্রারম্ভে একটি করে সংক্ষিপ্তসার লেখা হয়েছে (‘ভূমিকার বদলে’ নামে), পূর্বের ঘটনাবলী যেখানে ছোট করে বর্ণনা করা, যাতে ক্রমবিকাশমান ঘটনাপ্রবাহ বুঝতে বাঙ্গালী পাঠকের কোনো অসুবিধা না হয়।
দেশবিদেশে টলকেইনের এই মহাকাহিনীটি একই সঙ্গে এক বীরত্বপূর্ণ রমন্যাস এবং বিজ্ঞানসম্মত কথাসাহিত্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, সিনেমা এবং নাটক ও নৃত্যনাট্যও হয়েছে অনেক দেশে, অত্যন্ত উচ্চমানের। তবে, অগণিত ঘটনা পরম্পরা ও দৃশ্যপট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যে কাহিনী শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে তাঁর বিস্ময়াবিষ্ট চূড়ান্ত পরিণতিতে, স্বল্প কথায় সে গল্পের সমগ্র উৎকর্ষ ও সৃষ্টির বিস্তার সম্পূর্ণরূপে বুঝিয়ে বলা কঠিন।
মস্ত বড় একটি সুন্দর গল্প পড়ার আনন্দ ছাড়াও, টলকেইনের কাহিনীটিতে কতগুলি বিরাট শিক্ষা রয়েছে, আজকের জগতে যা অত্যন্ত প্রযোজ্য। যেমন, প্রকৃত বন্ধুত্বের মূল্য, বা আশার অসাধারণ শক্তি (কখনও নিরাশ হতে নেই!), এবং যুদ্ধের নিষ্ফলতা : তা’ সে-যুদ্ধের পরিণতি জয়-পরাজয় যাই-ই হোক। দুষ্টের প্রভাব দুনিয়াতে প্রবল, এমনকি মনে হতে পারে অজেয়, যা বহু চেষ্টা করেও শুভশক্তিগুলি নির্মূল করতে পারে না, যেমন রয়েছে এ গল্পে। কিন্তু কঠোর মনোবল এবং দৃঢ় কর্তব্যপরায়নতা বজায় রাখলে হঠাৎ আসে সুদিন, আসে অপ্রত্যাশিত এবং আচমকা পরিবর্তন। দুনিয়ায় কেউই ‘ক্ষুদ্র’ নয়, অবহেলার পাত্র নয়, সেটাও এ কাহিনীর এক বড় শিক্ষা। এবং গভীর শোকও যে প্রচন্ড শক্তিতে পরিণত হতে পারে, গল্পচ্ছলে তার নানা উদাহরণ। এইরকম আরও অনেক……..
Tolkien’s The Lord of the Rings has been labelled both a heroic romance and a classic of science fiction, and has been made into classic movies and plays, which have entertained millions all over the world. But in truth, it is impossible to so briefly convey all its qualities and the range of its creation as the narrative moves through countless changes of scenes to its enthralling climax. First published in 1954 in England, it is usually divided in 3 separate volumes : The Fellowship of the Ring, The Two Towers and The Return of the King, even though it is a single story (not a trilogy) with roots in The Hobbit. The Prologue written by Tolkien in The Fellowship briefly traces the events in The Hobbit, and his synopses at the beginning of The Two Towers and The Return of the King recapitulate previous events of the evolving plot. The same pattern of a three-part publication has been followed in this Bengali translation.
In narrating the story in Bengali it has also been our endeavor to bring out the great lessons Tolkien’s saga holds for the modern world : the value of friendship, the strength of hope (never give up hope!), the futility of war, the dominance and invincibility of evil which the forces of good find so difficult to overcome, and the sheer willpower and dedication which bring about sudden ‘eucatastrophic’ changes. That nobody is too small in this world, and sorrow can also be turned into great strength.